বাঙালির দর্শন মধ্যযুগ [দ্বিতীয় খণ্ড]

(0 reviews)


Price:
৳500 /Pc

Quantity:
(100 available)

Total Price:
Share:

বইয়ের বিবরণী

বইয়ের নাম : বাঙালির দর্শন মধ্যযুগ [দ্বিতীয় খণ্ড]
লেখক : ডক্টর এম. মতিউর রহমান
বিভাগ/ শ্রেণী: দর্শন

প্রাচীন যুগে বাঙালির চিন্তাধারায় মননসাধনা দর্শনচর্চার যে ঐতিহ্য আমরা লক্ষ করি, তা আরও বিকশিত হয়ে ওঠে মধ্যযুগে। মধ্যযুগের বাঙালিরা শাস্ত্রচর্চার পাশাপাশি অব্যাহত রাখেন মানবচর্চা। মধ্যযুগের বাঙালির দর্শনচর্চার পরিচয় লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে কেউ কেউ মনে করেন যে, মধ্যযুগের বাঙালির ইতিবৃত্তকেও স্রেফ ভাববিলাস কিংবা পরলোকচর্চার ইতিবৃত্ত বলে আমরা আখ্যাত করতে পারি না। মধ্যযুগের বাঙালি তার বাংলাভাষার জন্য সংস্কৃতভাষা থেকে যেটুকু ভিত্তি উপাদান সংগ্রহ করেছিল তার ওপর সে রচনা করতে সক্ষম হয়েছিল তার যুক্তিবাদী মানবমুখী দার্শনিক ঐতিহ্য। উল্লেখ্য যে, সংস্কৃতভাষায় ভাবাবেগ কাব্যকবিতার স্থান গৌণ, এবং সেই তুলনায় যুক্তি পাণ্ডিত্যের স্থান মুখ্য। তাতে রয়েছে প্রাণের ওপর মনের, এবং ভাবাবেগ কল্পনার ওপর বুদ্ধিবৃত্তি প্রজ্ঞার প্রাধান্য। ঐতিহ্যের অনুশীলনেই মধ্যযুগের বাংলায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে নব্যন্যায় এবং ব্যাপকভাবে চর্চিত অনুশীলিত হয় স্মৃতিশাস্ত্রের। আর ধারা বহমান থাকে আঠার শতক পর্যন্ত। পনের শতকের হরিদাস ন্যায়ালঙ্কার, ষোল শতকের রঘুনাথ শিরোমণি, কণাদ তর্কবাগীশ, এবং সতের শতকের জগদীশ তর্কালঙ্কার, জয়রাম পঞ্চানন, হরিনাথ তর্কবাগীশ, গদাধর ভট্টাচার্য প্রমুখ ছিলেন নব্যন্যায়পন্থী বিখ্যাত বাঙালি আচার্য। মধ্যযুগের বাঙালির দর্শন সমাজ-সংস্কৃতির পরিচয় আমরা সেই যুগের বিভিন্ন সাহিত্যকর্মেও প্রতিফলিত হতে দেখি। মধ্যযুগে বিকশিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে মঙ্গল সাহিত্য অন্যতম। মঙ্গল সাহিত্যে মধ্যযুগের যুগ-ভাবনা মননশৈলীর সার্থক রূপায়ণ লক্ষণীয়। মঙ্গল সাহিত্য তিন প্রকার। যেমন : মনসা মঙ্গল, চণ্ডী মঙ্গল ধর্ম মঙ্গল। মনসা মঙ্গলের আখ্যান বিষয়। সর্পদেবীর পূজা মাহাত্ম নিয়ে জড়িত। মধ্যযুগের বাংলায় সর্পদেবী দুই নামে পরিচিত ছিলেন। যথা : মনসা পদ্মা। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে মনসাদেবীর মাহাত্ম কীর্তিত হয়েছে। ব্রহ্মার আদেশে কষ্যপমুনি সর্পমন্ত্রের সৃষ্টি করেন, এবং তপোবলে মনদ্বারা তাঁকে সৃষ্টি করে মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী করেন। এজন্যই তিনি মনসারূপে সর্বাধিক প্রণম্য। কথিত আছে যে, কুমারী অবস্থায় মনসা মহাদেবের কাছ থেকে স্তব, পূজা মন্ত্র শিক্ষা করে পরিপূর্ণরূপে সিদ্ধ হন এবং সর্পদংশন। মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবীরূপে পরিগণিত হন। তখন থেকেই মনসা দেবতা, মনু, মুনি, নাগ মানুষ কর্তৃক পূজিতা হতে থাকেন। বাঙালির দর্শন : মধ্যযুগ শিরোনামে উপস্থাপিত গ্রন্থের উভয় খণ্ডে এই বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

There have been no reviews for this product yet.