বইয়ের বিবরন :
বইয়ের নাম: সমুদ্রের স্বাদ
লেখক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
বিভাগ/ শ্রেণী: গল্প
সমুদ্রের স্বাদগল্প
গ্রন্থে মোট
তেরোটি গল্প গ্রন্থিত
হয়েছে। গল্পগুলো
হল—সমুদ্রের স্বাদ,
ভিক্ষুক, পূজা
কমিটি, আফিম, গুণ্ডা,
কাজল, আততায়ী, বিবেক,
ট্র্যাজেডির পর,
মালি, সাধু, একটি
খোয়া ও মানুষ
হাসে কেন। বিশ্লেষকরা
মানিকের গল্পসমূহকে
দুই ভাগে বিভক্ত
করেছেন। ১৯৪৪
পূর্ববর্তীকালের মনোবিশ্লেষণমূলক পর্ব এবং
১৯৪৪ পরবর্তীকালের রাজনীতিসংযোগ
পর্ব। সে হিসেবে
সমুদ্রের স্বাদ
গ্রন্থের গল্পগুলো
প্রথম পর্বের অন্তর্গত।
কারণ মানিকের সমুদ্রের
স্বাদ গল্প গ্রন্থটি
১৯৪৩ সালে। প্রকাশিত
এবং গল্পগুলো তারও
আগে রচিত।
সমুদ্রের স্বাদ
সংকলনের দ্বিতীয়
সংস্করণের ভূমিকায়
লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প লেখার
বিষয়টি আরো
স্পষ্টতর করেন।
ভাবের আবেগে গলে
যেতে ব্যাকুল মধ্যবিত্তদের
নিয়ে সমুদ্রের স্বাদের
গল্পগুলি লেখা।
প্রথম বয়সে লেখা
আরম্ভ করি দুটি
স্পষ্ট তাগিদে, একদিকে
চেনা চাষী মাঝি
কুলিমজুরদের কাহিনী
রচনা করার, অন্যদিকে
নিজের অসংখ্য বিকারের
মোহে মুছাহত মধ্যবিত্ত
সমাজকে নিজের স্বরূপে
চিনিয়ে দিয়ে
সচেতন করার। মিথ্যার
শূন্যকে মনোরম
করে উপভোগ করার
নেশায় মর মর
এই সমাজের কাতরানি
গভীরভাবে মনকে
নাড়া দিয়েছিল। ভেবেছিলাম,
ক্ষতে ভরা নিজের
মুখখানাকে অতি
সুন্দর মনে করার
ভ্রান্তিটা যদি
নিষ্ঠুরের মতো
মুখের সামনে আয়না
ধরে ভেঙে দিতে
পারি সমাজ চমকে
উঠে মলমের ব্যবস্থা
করবে।
সমুদ্রের স্বাদ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ষষ্ঠ
গল্প সংকলন। প্রথম
সংকলনে প্রকাশকাল উল্লিখিত
না থাকায় সজনীকান্ত
দাস প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী
সমুদ্রের স্বাদ
সংকলনের প্রকাশ
কাল সেপ্টেম্বর ১৯৪৩।সমুদ্রের স্বাদ গল্পটি
এ সংস্করণের অন্যতম
সেরা গল্প। মধ্যবিত্তের
আশাভঙ্গের বেদনা
এ গল্পে প্রকট।
গল্পটি শুরুই হয়েছে
নীলার সমুদ্র দেখার
ইচ্ছের কথা দিয়ে।
স্কুলে পড়ার সময়
নীলা ভূগোল বইয়ে
সমুদ্রের কথা
জানতে পারে।