রবীন্দ্রকাব্যসাহিত্যের বিপুলতায় ক্ষণিকা কাব্যের অস্তিত্ব সগৌরবে দণ্ডায়মান। কাব্যটি কবির রোম্যান্টিক চেতনার বাসা বদল করে পরবর্তী আদর্শ, ন্যায়-নৈতিকতার কাব্য নৈবেদ্য রচনার পূর্বপ্রস্তুতিস্বরূপ । ক্ষণিকার বিশেষত্ব এর ছন্দ ও প্রাকৃত ভাষাপ্রয়োগে । ছন্দটি হচ্ছে বাংলার ছড়ার ছন্দ তথা স্বরবৃত্ত হালকা চালের রসপূর্ণ ভাবের ভিতরে রয়েছে গভীর তত্ত্ব ও বেদনার স্পর্শ। কবির। জীবনদর্শনও এখানে ক্ষণিকের আনন্দে উজ্জ্বলিত, অনেকটাই যা ওমর খৈয়ামের ভাবাদর্শ। ক্ষণিক জীবনের আনন্দ উপভোগ, ক্ষণিক প্রেমের উপলব্ধি আর বয়সের স্বভাব। ভুলে তরুণতর থাকার ঘোষণা আছে ক্ষণিকায়। এছাড়াও আছে কালিদাসের কাল নিয়ে । কৌতুক, বর্তমানকে নিয়ে কবির সন্তুষ্ট থাকার বয়ান। ছোট ছোট ছবি আঁকা হয়েছে ভাষায় যেখানে তুচ্ছ বস্তুপ্রাণীর দিকে কবির তীক্ষ। মনোযোগ কাব্যিকতা লাভ করেছে। কৌতুক-পরিহাস আর প্রাকৃত বাংলা ভাষাকে সাহিত্যিক ভাষা করে তোলার কৃতিত্বে ক্ষণিকা একটি অসাধারণ রচনা।