রবীন্দ্রস্নেহধন্য অধ্যাপক-সমালোচক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন : ‘বলাকা তীব্র বলিষ্ঠ উজ্জ্বল প্রাণশক্তির বিজয়গাথা। এই প্রাণশক্তিকে কবি তাহার বলাকা কাব্যে যৌবন বলিয়াছেন এবং তাহার ললাটে রাজটীকা পরাইয়াছেন।’
১৯১৩ সালে কবি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। বলাকার কবিতাসমূহ রচিত হয় ১৯১৪ থেকে। ১৯১৬-দু’বৎসর কালসীমার মধ্যে। কবি লিখছেন : ‘১৯১৮ সালে এই মহাযুদ্ধ [অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ] শেষ হোলো কিন্তু দুঃখের দুর্গতি তো শেষ হোলো না। দেশে দেশে দুর্গত নিপীড়িতদের দারুণ বেদনা রাজনীতিওয়ালা ঝুনোদের বহু চেষ্টাতেও চাপা দিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। সেই বেদনা ক্রমাগত আমার মনকে নাড়া দিচ্ছিল।
‘হঠাৎ বিশেষ-কোনো-একদিনের কোনো-এক উত্তেজনার বশে আমার বলাকা লেখা নয়। তা হোলে এর মূল্য হয়তো অনেক কম হোতো। বলাকার ব্যাকুল কবিতাগুলি এক বৈশাখে (১৫ই বৈশাখ, ১৩২১) আরম্ভ হোলো, মাঝে এক বৈশাখ গেল, তার। পরের বৈশাখে [৯ই বৈশাখ ১৩২৩] তা শেষ হোলো।
অর্থাৎ দুটি বছর লাগলো তা শেষ হতে। এক হিসাবে বলাকার আরম্ভে ও শেষে মিল আছে। এর আরম্ভ ও অবসান দুইই বৈশাখের নবারম্ভের জ্বলন্ত গতিতে। গানের যেখানে আরম্ভ সেইখানে এসে তার অবসান, এই ধ্রুবযোগ রয়েছে বলেই ধুয়ার ধ্রুবত্ব।
দেব-পরিক্রমা করতে হলেও যেখানে আরম্ভ সেইখানে একটি প্রদক্ষিণ শেষ করতে হয়। বলাকায় যেন একটি প্রদক্ষিণ পুরো সমাপ্ত হয়েছে। অগ্নিময় আরম্ভের সমাপ্তিও অগ্নিতে